শতকের আশির দশকে যখন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য বন্দর হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করে, তখন থেকেই
মহিপুর আলীপুর মৎস্য হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। নিচে এই প্রতিষ্ঠানের বিবর্তনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:১. প্রেক্ষাপট ও প্রতিষ্ঠা (আশির দশক)
১৯৮০-এর
দশকে আন্ধারমানিক নদীর দুই তীরে মহিপুর ও আলীপুর মৎস্য আড়তগুলো গড়ে ওঠে।
তখন সাগরের মাছ ট্রলার থেকে নামানো (আনলোডিং), বরফ দেওয়া এবং ট্রাকে লোড
করার জন্য বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন দেখা দেয়। শুরুতে এই শ্রমিকরা
অসংগঠিত ছিল, যার ফলে মজুরি নিয়ে প্রায়ই আড়তদার ও ট্রলার মালিকদের সাথে
বিরোধ তৈরি হতো। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা
নিশ্চিত করতে স্থানীয় শ্রমিক নেতাদের উদ্যোগে একটি অনানুষ্ঠানিক সমিতি গঠিত
হয়।
২. প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও নিবন্ধন
নব্বইয়ের
দশকে মৎস্য ব্যবসার প্রসারের সাথে সাথে শ্রমিকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তখন একটি শক্তিশালী সংগঠনের প্রয়োজন অনুভব করে শ্রমিকরা। পরবর্তীতে
বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী এটি একটি নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করে।
- নিবন্ধন: এটি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং শ্রম দপ্তরের অধীনে নিবন্ধিত।
- পরিধি: আলীপুর ও মহিপুর—এই দুই বন্দরের কয়েক শ আড়তে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়ে এই ইউনিয়ন পরিচালিত হতে থাকে।
১. বিবরণ ও প্রেক্ষাপট
মহিপুর
এবং আলীপুর মৎস্য বন্দর দুটি মূলত আড়তদারি এবং সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ও
সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র। এখানে ট্রলার থেকে মাছ খালাস করা (আনলোডিং), বরফ
দেওয়া, আড়তে মাছ সাজানো এবং ট্রাক লোড করার জন্য শত শত শ্রমিকের প্রয়োজন
হয়। এই শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং শৃঙ্খলার জন্য এই ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে।
বর্তমানে এর ভোটার সংখ্যা প্রায় ৬০৪ জন এবং মোট নিবন্ধিত শ্রমিক সংখ্যা ৭৫০ জনের বেশি।
২. গঠন প্রণালী (Structure)
সংগঠনটি একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
- কার্যনির্বাহী পরিষদ: এটি সাধারণত ৯ সদস্যের একটি কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন পদ্ধতি: প্রতি দুই বছর অন্তর (দ্বিবার্ষিক) সাধারণ সদস্যদের সরাসরি ভোটে এই কমিটি নির্বাচিত হয়।
- প্রধান পদসমূহ:
- সভাপতি
- সাধারণ সম্পাদক
- কোষাধ্যক্ষ
- সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অন্যান্য কার্যনির্বাহী সদস্য
- নিবন্ধন: এটি শ্রম আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত একটি ট্রেড ইউনিয়ন, যা স্থানীয় মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতি এবং উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে।
৩. প্রধান কার্যক্রম (Major Activities)
ইউনিয়নটি শ্রমিকদের স্বার্থে বহুমুখী কাজ করে থাকে:
- মজুরি নির্ধারণ ও আদায়: ট্রলার থেকে মাছ নামানো এবং পরিবহনের জন্য নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা যাতে শ্রমিকরা ন্যায্য পাওনা পান।
- শ্রমিক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা: বন্দরে শ্রমিকদের কাজের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো দুর্ঘটনা বা বিরোধ ঘটলে তা মীমাংসা করা।
- সংকটকালীন ত্রাণ ও সহায়তা: ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক ডিজেল সংকট বা সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময় যখন শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে, তখন এই ইউনিয়ন ত্রাণ ও সরকারি সহায়তা প্রদান করে।
- শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উন্নয়ন: আড়তদার বা ট্রলার মালিকদের সাথে শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।
- পেশাগত মানোন্নয়ন: শ্রমিকদের কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো।
